বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুর মুক্তাদির।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা-এর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রত্যয়
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারত আগ্রহী। পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
১১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য
বৈঠকের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি এবং ১.৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি।
তিনি জানান, এই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে আরও সম্প্রসারণে ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্ডার হাট ও স্থলবন্দর উন্নয়ন
বৈঠকে বন্ধ থাকা বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুমে নির্মিত নতুন ল্যান্ড পোর্ট ব্যবহারের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গ
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ইতোমধ্যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জাতিসংঘে আবেদন জানিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হরমোজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে হরমোজ প্রণালী-তে সম্ভাব্য নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হরমোজ প্রণালী দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পণ্যের দামে পড়ে। তবে বর্তমানে নিত্যপণ্য বা জ্বালানি আমদানিতে কোনো শঙ্কা নেই এবং সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বৈঠককে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে খন্দকার আবদুর মুক্তাদির বলেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।
