যশোরে অনলাইন গ্রোসারি প্রতিষ্ঠান চালডাল ডটকম-এর কল সেন্টারের প্রায় ৬০০ কর্মীর তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বকেয়া বেতনের দাবিতে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে কর্মীরা যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক-এর মেইন গেটে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মীদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। বেতন চাইলে ম্যানেজমেন্ট পক্ষ থেকে নানা ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যশোরে চালডালের ওয়্যারহাউজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে কর্মীরা জানান, এটি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার অশনিসংকেত।
পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় অবস্থিত চালডালের বৃহৎ কল সেন্টারে কর্মরত শারমিন আক্তারসহ একাধিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিন মাস ধরে কোনো বেতন পাইনি। কেউ কেউ আংশিক পেলেও অধিকাংশ কর্মী বেতনহীন রয়েছেন।”
তারা জানান, বেতন না পাওয়ায় বাসাভাড়া পরিশোধ, সংসার খরচ ও ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বকেয়া চাইলে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে কর্মীদের অভিযোগ অস্বীকার করে চালডালের উপপরিচালক আজিজুর রহমান জিকো বলেন, “তিন মাস নয়, দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। ডিসেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, গত এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে রয়েছে। তবুও কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়নি এবং ধাপে ধাপে বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা চলছে।
এর আগে রোববার রাতেও কল সেন্টারে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আর্থিক সঙ্গতি না বাড়লে সংকট কাটানো কঠিন হবে। সাময়িক পরিস্থিতি মেনে নিতে না পারলে কর্মীদের বিকল্প ভাবার পরামর্শও দেওয়া হয়।
এদিকে শ্রম অধিকার সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া থাকলে তা শ্রম আইনের পরিপন্থী। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
