গাজা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফা সীমান্ত খুলে দেয়ায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে অনেকেই মিসরসহ বিভিন্ন দেশে আটকা পড়েছিলেন। ক্রসিং চালু হওয়ায় ঘরে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেছেন তারা।
দীর্ঘদিন ধরে তিন সন্তানকে চোখের দেখাও দেখতে পাননি ফিলিস্তিনি মা ৪৩ বছর বয়সী ফাতেন হামেদ আবু ওয়াতফা। ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজা সিটি ছেড়ে মিসরে গিয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন শাশুড়ির চিকিৎসা শেষ হলেই ফিরবেন পরিবারের কাছে। তবে রাফাহ ক্রসিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মিসরেই আটকা পড়েন তিনি।
প্রায় দুই বছর পর গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার রাফা সীমান্ত দুদিক থেকেই খুলে দেয়ায় প্রিয়জনের কাছে ফিরে যাওয়ার আশায় বুক বাধছেন আবু ওয়াতফা। যুদ্ধে তার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তবু, আগেভাগেই বাক্স-পেটরা গুছিয়ে রাখছেন। তার মতে, পরিবারকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের কাছে বাকি সবই তুচ্ছ।
এদিকে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে গাজা উপত্যকা ছেড়ে যেতে চাইছেন অনেকেই। তাদেরই একজন ৫০ বছর বয়সী তামের আল-বুরাই। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। তবে, ইসরায়েলি তান্ডবে উপত্যকার স্বাস্থ্যখাত একেবারেই ভেঙে পড়েছে। রাফাহ ক্রসিং চালু হওয়ায় চিকিৎসা নিতে মিসরে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি।
গেল রোববার গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেয়া হয়। তবে, এরইমধ্যে হাজারো গাজাবাসী চিকিৎসার জন্য উপত্যকা ছেড়ে যেতে আবেদন করেছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে শিশু ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীসহ এ সংখ্যা অন্তত ২০ হাজার।
