আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
শপথ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
২৯৬ জন এমপি আজ শপথ নেবেন (দুটি আসনের গেজেট হয়নি)
শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন
অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
ঢাকা-১৭ আসনের এমপি হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। বগুড়া-৬ আসন তিনি ছেড়ে দিয়েছেন।
মন্ত্রিসভা গঠন
প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন শপথ নিতে পারেন।
বিএনপি সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে নির্বাচন করবে বলে জানা গেছে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।
নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ
তারেক রহমান নিজেই স্বীকার করেছেন, পথটি কঠিন ও প্রতিকূল। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো—
উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
ব্যাংকিং খাতের সংকট
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন
দুর্নীতি দমন
কর্মসংস্থান সৃষ্টি
পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য
বিশেষ করে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষ ও প্রফেশনাল নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।
জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা
জিয়াউর রহমান – রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা
খালেদা জিয়া – তিনবারের প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান – ষষ্ঠবার ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী
উপমহাদেশে বাবা-মা ও সন্তান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার ঘটনা বিরল। শ্রীলঙ্কায় এস. ডি. বন্দরনায়েক পরিবার এবং ভারতে জওহরলাল নেহরু পরিবারের উদাহরণ উল্লেখযোগ্য।
শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি
শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। মালদ্বীপ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ বেশ কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির ক্ষমতায় আসার ইতিহাস (সংক্ষেপে)
১৯৭৯–৮১: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে
১৯৯১–৯৬: খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে
২০০১–০৬: চারদলীয় জোট সরকার
২০২৬: প্রায় দুই দশক পর পুনরায় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন
