বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের দেখভালের জন্য একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। যেমন ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারে এলে হারানো স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে শহীদ পরিবার ও আহতদের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা হবে। এ লক্ষ্যে পৃথক বিভাগ গঠন করে তাদের সার্বিক দেখভাল নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যা এক কথায় গণহত্যা।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়; এটি ছিল সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন। এর লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
