আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ইউনিয়নগুলোতে একচেটিয়া ভোট পেয়েছে বিএনপি।
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে স্বাধীনতার পর দ্বিতীয়বারের মতো জয় পেয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে তাদের সমর্থকদের ভোট জয়ের নিয়ামক হিসেবে কাজ করার বার্তা ছিল আগে থেকেই। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা সেই চেষ্টাই করেছে। শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ ভোট গেছে ধানের শীষের বাক্সে। আসনটির কেন্দ্রভিত্তিক ফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।
এ কারণে অন্য এলাকায় বেশি ভোট পেলেও জয়ী হতে পারেনি জামায়াত। গণভোটেও এই আসন ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। খুলনার সবেচেয়ে বেশি ‘না’ ভোট পড়েছে এই আসনে– ৪৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
খুলনা-১ আসনে এবার প্রথমবারের মতো জয়ী হয়েছেন বিএনপির আমির এজাজ খান। দ্বিতীয় হয়েছেন জামায়াতের আলোচিত হিন্দু প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী। হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় বাড়তি ‘কদর’ পেতে তাঁকে প্রার্থী করেছিল জামায়াত। কিন্তু নির্বাচনে ৫১ হাজার ৬ ভোটে জয় পায় বিএনপি। ভোট পড়েছে ৬৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
খুলনা-১ আসনের দুই উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত দাকোপ। ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিদের দাপট ছিল। এই উপজেলার ৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টিতে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। শুধু এই উপজেলাতেই বিএনপি বেশি পেয়েছে ৩৭ হাজার ২৬৪ ভোট।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলে দেখা গেছে, যেসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রভাব বেশি সেখানে বিএনপির জয়ের ব্যবধানও ছিল বেশি। এর মধ্যে কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ৫টি কেন্দ্রে বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৫১ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন এক হাজার ৫ ভোট। লাউডোব ইউনিয়নের চারটি কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ৫ হাজার ৬৫১ ভোট, দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১ হাজার ২১২ ভোট। এই উপজেলায় ‘না’ ভোট বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল।
দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ভোটাররা মনে করেছে বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। এ জন্য তাদের ভোট দিয়েছে। ভোটের আগে বিএনপির প্রার্থী ফোন করেছিলেন। আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি।
আসনটির বটিয়াঘাটা উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রভাব কিছুটা কম। এখানে ৬৪ কেন্দ্রের ২৫টি কেন্দ্রে জয় পেয়েছে জামায়াত, বাকিগুলোতে বিএনপি। খুলনার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন জলমাতেই ভোটার ছিল ৬১ হাজার ৭৬০। শহরতলির এই ইউনিয়নে বিএনপির প্রভাব বরাবরই বেশি ছিল। এখানে বিএনপি ১৯ হাজার ১৯৪ ভোট আর জামায়াত পায় ১৮ হাজার ৪ ভোট।
