নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন সুনীল শুভ রায়। এর আগে তিনি দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে একই আসনে নির্বাচন করেছিলেন।
সুনীল শুভ রায় জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ করে তিনি বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে নিজস্ব কিছু ব্যক্তির জন্য আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় নির্বাচনের তিন দিন পর তাকে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হলেও তৎকালীন নির্বাচন কমিশন ওই কাউন্সিলকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় সাংগঠনিকভাবে সফল হওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি কিছু সময় রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয় ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে আসলে তার ঘনিষ্ঠ অনুসারী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে যারা তাকে ভোট দিয়েছিলেন—তাদের অনুরোধেই পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান তিনি। এলাকাবাসীর আহ্বান উপেক্ষা করতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন।
সুনীল শুভ রায় বলেন, ২০১৭ সালে গঠিত ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’-এর প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এ জোটভুক্ত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের “মোমবাতি” প্রতীক নিয়ে তিনি খুলনা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে রাজনীতি করায় এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি অবগত বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, তার প্রণীত ১২ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দাকোপ ও বটিয়াঘাটার জনগণের সুখ, শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথ সুগম হবে। রাজনৈতিক জীবনের প্রায় ৩৫ বছর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে কাজ করেছেন উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
সুনীল শুভ রায় আরও বলেন, তার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়ার নেই, তবে অভিজ্ঞতা থেকে দেওয়ার আছে অনেক কিছু। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যে বিজয় হাতছাড়া হয়েছিল, এবার তা পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক নবযাত্রার অংশীদার হতে পারাকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
মোমবাতি প্রতীকের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সব আলো নিভে গেলে অন্ধকার দূর করতে যেমন মোমবাতি জ্বালাতে হয়, তেমনি তিনি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজেকে উজাড় করে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চান।
