নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘অনেকে জানতে চান—“হ্যাঁ”-এর প্রার্থী কে? আমি বলি, হ্যাঁ-এর প্রার্থী আপনি, আমি—আমরা সবাই।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত এ জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন বা দুঃশাসন চায় না। মানুষ একটি আলোকিত আগামী গড়তে চায়, নতুন দিন আনতে চায়—যে দিন হবে সাম্য, সমতা ও আনন্দের। যেখানে গুমের ভয় থাকবে না, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তারের আতঙ্ক থাকবে না। যে দিনের স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, যে দিন আনতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ছাত্র-জনতা অকাতরে জীবন দিয়েছে।’
খুলনায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
তবে বিদ্যমান সংস্কারের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আসন্ন গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।
‘হ্যাঁ’-ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ফলে বিচারের বাণী আর নীরবে নিভৃতে কাঁদবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে—যে পথ আমাদের সংবিধানের দুর্বলতার কারণে তৈরি হয়েছিল।’
তিনি বলেন, গণভোটের মধ্যদিয়ে আমাদের পূর্বসূরীদের পুরোনো স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে। ৫৪ বছর আগে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমাদের পূর্বসূরীরা যে স্বাধীন দেশের স্বপ্নে শপথ নিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন স্বদেশ গড়া—যেখানে বৈষম্য, বঞ্চনা ও শোষণের কোনো স্থান থাকবে না।
অর্থনৈতিক লুটপাটের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মনির হায়দার বলেন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—গত ১৬ বছরে দেশ থেকে প্রায় সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই টাকা দেশের মানুষের টাকা, যা দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব ছিল। তাই লুটেরাদের লুটপাট বন্ধ করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
