গণ-অভ্যুত্থান–উত্তর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রচলিত হিসাব–নিকাশ বদলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে যে রাজনৈতিক ইকুয়েশন ৫০–৫৫ বছর ধরে চলে আসছিল, সেই প্রতিটি ইকুয়েশন এবারের নির্বাচনে ভেঙে গেছে। আগের মতো অমুক দলের ৩০ শতাংশ, তমুক দলের ৪০ শতাংশ—এই গতানুগতিক হিসাব আর চলবে না। জনগণ এবার তাদের ভোটাধিকারের মধ্য দিয়েই সেই হিসাব বদলে দেবে।”
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকার–এর সমর্থনে আয়োজিত ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’ শীর্ষক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনে আয়োজিত এই সমাবেশে আসিফ মাহমুদ বলেন,
“আপনি যদি রাস্তায় যান, বাজারে যান, সবজিওয়ালা, রিকশাওয়ালা, শিক্ষক, ছাত্র—সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বললেই বুঝবেন রাজনৈতিক ডেমোগ্রাফি বদলে গেছে। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপি এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই নির্বাচনে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির সঙ্গে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচন নির্ধারণ করবে—
“বাংলাদেশ কি আগের মতোই চলবে, নাকি সামনে নতুন পথে হাঁটবে? গত ১৭ বছরে জনগণ যে অপশাসন, গুম–খুন, মুখ চেপে ধরে রাখা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি দেখেছে, সেই অধ্যায় আবার ফিরে আসবে কি না—এই নির্বাচনই তার ফয়সালা দেবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে যে দল ক্ষমতায় ছিল, তাদের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি গত দেড় বছরেও দেখা গেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান একদিকে হেলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভোটে অনিয়ম হলে জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন,
“আগের বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত নির্বাচন কমিশনারদের পরিণতি বর্তমান কমিশনের মনে রাখা উচিত। আমরা চাই না ভবিষ্যতে আপনাদের কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হোক।”
১০–দলীয় ঐক্য শুধু আসন ভাগাভাগির জন্য নয়, বরং সংস্কারভিত্তিক কিছু নীতির ওপর গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“আমরা বিজয়ী হলে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারের চেয়েও আরও গভীর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগের পর ঢাকা-১০ আসন থেকে আসিফ মাহমুদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি এই আসনের ভোটারদের উদ্দেশে জামায়াত ও ১০–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,
“ঢাকা-১০–এর মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা কোনো চাঁদাবাজ, স্বীকৃত সন্ত্রাসী বা খুনিকে আবার এই আসনে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।”
জামায়াত আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য নুর নবী মানিক। সভায় প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারও ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়।
