দেশের প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতা খান এ সবুরের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৫ জানুয়ারি। দিনটি উপলক্ষে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খান এ সবুর স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আজ সকালে খুলনার ‘সবুর লজ’ এলাকায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে মরহুমের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা এবং দেশের প্রতি অবদান নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শুভানুধ্যায়ী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
খান এ সবুর ১৯১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার আটটাকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
পাকিস্তান আমলে তিনি কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং তৎকালীন জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল ঘটনাবহুল ও বহুমাত্রিক, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে।
নির্বাচনী ইতিহাস ও অবদান
১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খান এ সবুর একদিনে তিনটি আসনে নির্বাচিত হয়ে একটি বিরল রেকর্ড গড়েন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম লীগ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দলের নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন।
তিনি শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবেই নয়, সমাজকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমেও পরিচিত ছিলেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে দান করেন।
ইন্তেকাল ও স্মরণ
১৯৮২ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় খান এ সবুর ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তাঁর দানকৃত সম্পদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় খান এ সবুর ট্রাস্ট, যার অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা।
আজকের স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, খান এ সবুর ছিলেন সাহসী, স্পষ্টভাষী ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
