খুলনা, বাংলাদেশ
সোমবার । ২রা মার্চ, ২০২৬ । ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২
তোহফায়ে রমজানুল মোবারক জানতে ক্লিক করুন
  • Home  
  • দরপত্র ছাড়া কয়েক গুণ দামে কেনা হচ্ছিল মশার ওষুধ
- খুলনা - খুলনাঞ্চল - বাংলাদেশ

দরপত্র ছাড়া কয়েক গুণ দামে কেনা হচ্ছিল মশার ওষুধ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১৪ দিন আগে উন্মুক্ত দরপত্র বাদ দিয়ে বিমানবাহিনী কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মশার ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। গত ২৮ জানুয়ারি কেসিসির বিশেষ সভায় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে প্রতি লিটার ৪৮০ টাকা দামে ২০ হাজার লিটার ‘অ্যাডাল্টিসাইট’ নামে মশার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়, […]

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১৪ দিন আগে উন্মুক্ত দরপত্র বাদ দিয়ে বিমানবাহিনী কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মশার ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। গত ২৮ জানুয়ারি কেসিসির বিশেষ সভায় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে প্রতি লিটার ৪৮০ টাকা দামে ২০ হাজার লিটার ‘অ্যাডাল্টিসাইট’ নামে মশার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়, যা বর্তমান ওষুধের দামের প্রায় তিন গুণ। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে ওষুধ কেনা থেকে পিছু হটেছেন কেসিসির বিদায়ী প্রশাসক মোখতার আহমেদ। নতুন প্রশাসক নিয়োগ এবং অন্য কর্মকর্তাদের আপত্তিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এ প্রক্রিয়া বাতিল হয়েছে। এখন আগের মতো উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় ওষুধ কেনা হবে।

মশার ওষুধ কেনার পেছনে প্রতিবছর কেসিসির ব্যয় হয় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মশার ওষুধ কেনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ওই ওষুধের কার্যকারিতা কম থাকায় নগরীতে মশার উপদ্রব ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এ কারণে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মশার ওষুধ কিনতে কড়াকড়ি আরোপ করে কেসিসি। করপোরেশনের বিদায়ী সচিব, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে যাচাই-বাছাই করে ওষুধ কেনা হয়। মানসম্মত ওষুধ কেনায় গত শীত মৌসুমে নগরীতে মশা নিয়ন্ত্রণে ছিল।

গত ২৬ জানুয়ারি কেসিসির প্রশাসক মোখতার আহমেদ কর্মকর্তাদের ডেকে জিটুজি পদ্ধতি বা সরাসরি ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেন। এক দিনের নোটিশ কেসিসির ১১তম বিশেষ সভার আলোচ্যসূচিতে বিমানবাহিনী কল্যাণ ট্রাস্টের কাছ থেকে ২০ হাজার লিটার ওষুধ কেনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এক দিন পর ২৮ জানুয়ারি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয় ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিমানবাহিনী কল্যাণ ট্রাস্ট সরাসরি মশার ওষুধ তৈরি করে না। তারা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কিনে সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দরও অস্বাভাবিক। তবে কেসিসির অন্য কর্মকর্তাদের আপত্তিতে এ ধরনের ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগে দর সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো ৪৫০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত দর দেয়। তবে প্রশাসকের পছন্দের প্রতিষ্ঠানের দর ৪৮০ টাকা।

ব্যবহৃত কেসিসির মূল ওষুধ প্রতি লিটারের দাম ১১০০ টাকা। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম পড়ে আরও ১০০ টাকা। মূল ওষুধ কিনে ব্যবহারোপযোগী করতে প্রতি লিটারে কেসিসির ব্যয় হয় ১৬২ টাকা। অথচ একই ওষুধ সরাসরি কিনতে খরচ হতো ৪৮০ টাকা, যা বর্তমান মূল্যের তিন গুণ।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান বলেন, জিটুজি পদ্ধতিতে ওষুধ কেনার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। এখন আগের মতো ওষুধ কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক: মেহেদী কবীর সুমন

ইমেইল:  priyokhulna25@gmail.com 

যোগাযোগ:  ০১৭২৩৪৩৫৪৫০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
©2025 priyokhulna all rights reserved