নিজস্ব প্রতিবেদক;
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৫শ ঘর পুড়ে এক রাতেই গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ। তিন দিন পেরোলেও বস্তিতে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সরকারি উদ্যোগ দেখা যায়নি, ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পোড়া টিন, ছাই, ভাঙা কাঠ আর দগ্ধ আসবাবের স্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে অসহায় মানুষজন তাদের হারানো জীবনের সামনে নির্বাক। সবচেয়ে বিপদে শিশু ও নারী। কেউ খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে, কেউ রাতে ঘুমানোর নিরাপদ জায়গা খুঁজছে।
“ছেলেটার কষ্ট আর সহ্য হয় না”—পোড়া ঘরের কনেতে ঘুমিয়ে ১১ বছরের রিপন
পোড়া ঘরের এক পাশে অর্ধদগ্ধ বিছানার ওপর ঘুমিয়ে ছিল ১১ বছরের রিপন। ঠান্ডা আর রোদের ক্লান্তিতে বেহুঁশের মতো ঘুমিয়ে থাকা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে তার মা তনজিলা খাতুন কান্না আটকে রাখতে পারেন নি।
তিনি বলেন “দেখেন, সারা রাত ঠান্ডায় ঘুমাতে পারে নাই, সারাদিন রোদের মধ্যে থাকতে পারে নাই। দুপুরেও খায় নাই। এক প্যাকেট খিচুড়ি পাইছিলাম,তাও নষ্ট হয়ে গেছে। সরকার থেকে তো কোনো সহায়তা এখনো পাইনি। রাতে ওরে কী খাওয়াবো জানি না।”
রিপনের মতো শত শত শিশু এখন খাবার, পানি, শোয়ার জায়গা, এমনকি পরার পোশাক ছাড়া দিন কাটাচ্ছে। লুটপাটের অভিযোগও উঠছে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন
“ঘর পুড়ছে, তার থেকেও লুটপাট হইছে বেশি। আগুন নেভার আগেই মানুষের জিনিস টানাটানি!”
অগ্নিকাণ্ডের বিশৃঙ্খলার মধ্যেই কিছু ঘরে লুটপাট হয়েছে বলে একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন।
আগুনের কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি—তদন্ত শুরু হয়নি
স্থানীয়দের অনেকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, কেউ শর্ট সার্কিটকে দায়ী করছেন। কিন্তু সরকারি তদন্ত কমিটি এখনো গঠন হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
ফায়ার সার্ভিসের মতে, ঘিঞ্জি টিনের ঘর আর সরু রাস্তায় আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে ক্ষতি ব্যাপক হয়। ১৫০০ ঘর ছাই—হাজারো মানুষ দিশেহারা পোড়া ঘরের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে কেউ খুঁজছেন হাঁড়ি-পাতিল, কেউ পোশাকের শেষ টুকরো। অনেক পরিবার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বই–খাতা, কর্মসংস্থান সরঞ্জাম সব হারিয়েছে।
সরকারি কোনো তাঁবু শিবির, ত্রাণ কেন্দ্র বা চিকিৎসা সহায়তা এখনো স্থাপন করা হয়নি, কিছু সংগঠন এগিয়ে এসেছে তাদের পাশে। বাসিন্দারা রাত-দিন খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন।
ত্রাণ খুবই সীমিত সংকট বাড়ছে স্থানীয় সমাজকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী ও কিছু সংগঠন খাবার ও পানি দিচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
মানুষের দাবি—দ্রুত ত্রাণ, নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে কয়েক হাজার মানুষ বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়বে।
