বটিয়াঘাটা (খুলনা) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি উন্মুক্ত মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক স. ম. এনামুল হক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখার আমীর মওলানা শেখ মুহাম্মদ আবু ইউসুফ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মওলানা মুহাম্মদ নাজমুল হাসান।
প্রধান বক্তা অধ্যাপক স. ম. এনামুল হক তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে শরীয়তপুরে সংঘটিত এক উপজেলা সেক্রেটারি হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন,
“শরীয়তপুরে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে মানুষ হত্যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
তিনি আরও বলেন,
“রাজনীতির নামে খুন, সন্ত্রাস ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবু কৃষ্ণ নন্দী বলেন,
“খুলনা-১ আসনের জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরা ক্ষমতার রাজনীতি নয়, জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করব।”
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা জেলা দক্ষিণ ছাত্রশিবির সেক্রেটারি অয়েসকুরুনী। তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে বলেন,
“হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বটিয়াঘাটা উপজেলা পূর্ব শাখার সভাপতি গালিব উদ্দীন, সেক্রেটারি মুহাম্মাদ উল্লাহ এবং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন সভাপতি হাফেজ রিয়াজুল ইসলাম। তাঁরা সবাই বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মওলানা মুহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন,
“শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব। আসন্ন নির্বাচনে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে রায় দিতে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।”
জনসভায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে শরীয়তপুরের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
