নিজস্ব প্রতিবেদন
শুরু হয়েছে আলুর নতুন মৌসুম। খুলনার প্রায় সব বাজারে আমদানি এপণ্যের দেখা মিলছে। নভেম্বর মাসের শেষ দিকেই কৃষকেরা জমি থেকে তোলা শুরু করে। এ পণ্যের নতুন ও পুরাতন এর মধ্যে প্রতিযোগীতা চলছে। নগরীতে নতুন আলুর দাম এখন কেজিপ্রতি ৩৫-৫০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে যখন প্রথম বাজারে এসেছিল নতুন আলু, তখন ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। পুরোনটা কেজি প্রতি ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারে রাখতে হয়। সাধারণত জমি থেকে নতুন মৌসুমের আলু উত্তোলন শুরু হয় নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরু থেকে। মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাজারে এসব নতুন আলু কিনতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি পুরোনো আলুও বিক্রি হয়।
অন্যদিকে হিমাগার থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সব বের করে দেওয়া হয়। এরপর হিমাগারের রক্ষণাবেক্ষণকাজ শেষে ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন মৌসুমের সংরক্ষণ শুরু হয়। মার্চ মাসে হিমাগারে সংরক্ষণ শেষ হয়।
নগরীর ডাক বাংলো এলাকার বাসিন্দা নাজমুস সাকিব বলেন, ‘দাম একটু বেশি; কিন্তু বাসা থেকেও বলেছে নতুন আলু পেলে আনতে। তাই দুই কেজি আলু কিনলাম।
বড় বাজারের বিক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, বাজারে নতুনের আমদানী কম, পুরোনাটা ৪ কেজি ১’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুনটার চাহিদা একটু বেশি।
সাধারণত মৌসুমের শুরুতে যেকোনো পণ্যের দাম বেশি থাকে। বাজারে প্রায় ১৫ দিন ধরে নতুন আলু উঠছে। শুরুর কয়েক দিন প্রতি কেজির দাম ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এরপর দাম কমতে থাকে। সপ্তাহখানেক আগে কেজি ছিল ৮০-১০০ টাকা। এখন খুচরা বাজারে এক কেজি নতুন আলু কেনা যাচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এগুলো সাদা আলু। আর নতুন লাল আলুর দাম আরেকটু বেশি, কেজি ৪৫-৬০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ নতুন আলুর সরবরাহ আরও বাড়বে। তাতে দামও কমে আসবে। তখন কেজি ৩০-৪০ টাকায় নামতে পারে। কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে আরেকটি প্রবণতা হলো, মৌসুমের শেষ দিকে এসে সবজির দাম বাড়ে। বাজারের এ স্বাভাবিক প্রবণতা এ বছর আলুর ক্ষেত্রে খাটেনি। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন প্রতি কেজি পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। আর বিভিন্ন উৎপাদন এলাকায় ১৫ টাকা কেজি দরেও পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে।
