নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় এবং বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে রবিবার খুলনা বিভাগজুড়ে একযোগে এ তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকারের ১০টি টিম অংশ নেয়। অভিযানকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী, চাল, ভোজ্যতেল, এলপিজি গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর তদারকি করা হয়। পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
খুলনা মহানগরীতে খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে সদর থানার সাতরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বনফুলকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার দায়ে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেল্লাল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মাগুরা জেলার কছুন্দী বাজারে সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেসার্স মীম চানাচুরকে খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ উপাদান মিশ্রণ ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় উৎপাদনের দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাতক্ষীরার মেডিকেল মোড় বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভাই ভাই ফার্মেসিকে ৮ হাজার টাকা এবং মা মেডিকেল ফার্মেসিকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাগেরহাট সদর উপজেলার ফতেহপুর বাজারে সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রাজলক্ষ্মী ফুড প্রোডাক্টকে ৫ হাজার টাকা এবং ঈশীতা কসমেটিককে ৫ শত টাকা জরিমানা করা হয়।
খুলনা জেলার খালিশপুর থানার বিআইডিসি রোড ও চিত্রালী বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হামিম মেডিকেল হলকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ৩ হাজার টাকা এবং তালহা লাইভ বেকারিকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনের দায়ে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘড়িয়া বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেসার্স ফারুক ভ্যারাইটিজ স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
যশোরের হাইকোর্ট বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কাজল ফুডকে পণ্যের মোড়ক সঠিকভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান বাজারে সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভাই ভাই ট্রেডার্সকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর বাজারে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অহিদুল চটপটি হাউজকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভাগীয় উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম জানান,
জানায়, অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে এবং বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ ও নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
