খুলনা, বাংলাদেশ
মঙ্গলবার । ৩রা মার্চ, ২০২৬ । ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২
তোহফায়ে রমজানুল মোবারক জানতে ক্লিক করুন
  • Home  
  • গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের বার্তা, ডাভোসে বৈশ্বিক অস্থিরতা
- আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের বার্তা, ডাভোসে বৈশ্বিক অস্থিরতা

তুষার আর হিমশীতল আবহাওয়া ছাড়া গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সুইস আল্পসের খুব বেশি মিল নেই। কিন্তু বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর এবারের আসরে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ঘিরেই ঘনীভূত হয়েছে বৈশ্বিক উত্তেজনা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্বাভাবিক হুমকি ও বক্তব্য ডাভোসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডাভোস বৈঠকের সময় মাথায় রেখেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য […]

তুষার আর হিমশীতল আবহাওয়া ছাড়া গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সুইস আল্পসের খুব বেশি মিল নেই। কিন্তু বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর এবারের আসরে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ঘিরেই ঘনীভূত হয়েছে বৈশ্বিক উত্তেজনা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্বাভাবিক হুমকি ও বক্তব্য ডাভোসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডাভোস বৈঠকের সময় মাথায় রেখেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এসেছে। ডাভোসকে ট্রাম্প বরাবরই পছন্দ করেন—যা তার সমর্থকগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক বলেই মনে করা হয়।
গত বছর হোয়াইট হাউস থেকে ভার্চুয়ালি ডব্লিউইএফে যোগ দিয়ে ট্রাম্প ইউরোপীয় শীর্ষ নির্বাহীদের সামনে হাজির হয়েছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই দিনের মাথায় দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের ‘ভৌগোলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারকদের জন্য দেন একপ্রকার হুমকিসূচক প্রস্তাব—যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা গড়ুন, নইলে গুনতে হবে উচ্চ শুল্ক। তার ভাষায়, “এটা তোমাদের সিদ্ধান্ত।”
হাসিমুখে বক্তব্য দিলেও সভাকক্ষে তখন স্পষ্ট অস্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। সশরীরে উপস্থিত হতে না পারার জন্য ক্ষমা চেয়ে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, পরের বছর তিনি নিজেই ডাভোসে আসবেন।
সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বুধবার ডাভোসে হাজির হচ্ছেন ট্রাম্প। এবারের ডব্লিউইএফ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে, যার পেছনে বড় কারণ ট্রাম্পের উপস্থিতি ও তার নীতির বৈশ্বিক প্রভাব। ইউরোপসহ বিশ্বের বহু দেশ যখন অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে, তখন ট্রাম্প ‘টিম ইউএসএ’ বার্তা নিয়ে মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন।
ডব্লিউইএফ-এর কিছু আলোচনায় এই পরিস্থিতিকে ‘দ্য গ্রেট গ্লোবাল ডিসরাপশন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অনেকের মতে, এই মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় ‘ডিসরাপ্টর’ হলেন ট্রাম্প নিজেই।
ডাভোসে বিশ্বনেতা ও কর্পোরেট প্রধানরা ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রেখে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এই সপ্তাহে ডাভোস একদিকে যেমন বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু, অন্যদিকে তেমনি এক অদ্ভুত ও নাটকীয় মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
ডব্লিউইএফ-এর এবারের মূল প্রতিপাদ্য—“সংলাপের চেতনা”। যদিও এই মঞ্চে ব্যতিক্রমী আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়, তবু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনিক ধারা ও ট্রাম্পের বক্তব্য অনেক ক্ষেত্রেই বৈশ্বিক সহযোগিতার সেই চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক: মেহেদী কবীর সুমন

ইমেইল:  priyokhulna25@gmail.com 

যোগাযোগ:  ০১৭২৩৪৩৫৪৫০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
©2025 priyokhulna all rights reserved