২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদক–এর মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন দেশের নৃত্যশিল্পীরা। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব–এর জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরা হয়।
নৃত্যশিল্পীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক ফারহানা চৌধুরী বেবি। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানান এবং এটিকে নৃত্যশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। তবে ঘোষিত মনোনয়ন নিয়ে নৃত্যাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একুশে পদক দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও মুক্তচিন্তার চেতনার প্রতীক—যা আজীবন সাধনা, সুদীর্ঘ অবদান এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। বিশেষ করে নৃত্যকলার মতো ঐতিহ্যনির্ভর ও সাধনাভিত্তিক শিল্পে এই সম্মান প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রত্যাশিত।
তিনি দাবি করেন, ঘোষিত শিল্পীর অভিজ্ঞতার পরিসর, নৃত্যচর্চা ও নৃত্যশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান নিয়ে নৃত্যাঙ্গনের একটি বড় অংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশের নৃত্য ঐতিহ্য লোকনৃত্য, ধ্রুপদী ধারার দেশীয় অভিযোজন এবং সমকালীন সৃজনশীল চর্চার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় অবদান কতটা রয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
ফারহানা চৌধুরী বেবি আরও বলেন, দেশে বহু প্রবীণ নৃত্যশিল্পী রয়েছেন, যারা কয়েক দশক ধরে নৃত্যচর্চা, গবেষণা, মঞ্চায়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাদের অবদান উপেক্ষিত হওয়া বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক।
ছয় দফা দাবি
নৃত্যশিল্পীদের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো—
একুশে পদক প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৬ সালে নৃত্যকলায় পদক প্রদান করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই।
২০২৬ সালের নৃত্যকলার মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা।
নৃত্যাঙ্গনের অভিজ্ঞ ও স্বীকৃত ব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণ।
স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ।
দীর্ঘমেয়াদি অবদানের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
ভবিষ্যতে শিল্পভিত্তিক বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে মনোনয়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী আমানুল হক, নৃত্যপরিচালক তামান্না রহমান, আনিসুল ইসলাম হিরুসহ নৃত্যাঙ্গনের আরও অনেকে।
