খুলনা, বাংলাদেশ
মঙ্গলবার । ৩রা মার্চ, ২০২৬ । ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২
তোহফায়ে রমজানুল মোবারক জানতে ক্লিক করুন
  • Home  
  • রমজান উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী নানার হালিম–ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়
- এক্সক্লুসিভ - খুলনা

রমজান উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী নানার হালিম–ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

খুলনায় নানা হালিমের কদর আলাদা।গত ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডস্থ পাইওয়নিয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সামনে বিক্রি হয়ে আসছে এই হালিম। রমজান এলেই নানাকে স্মরণ করেন খুলনার সব বয়সের মানুষ। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি ডেগে ১০০ থেকে দেড়শ’ কেজি হালিম রান্না করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কথা হয় তার সাথে। বয়সের ভারে নুয়ে […]

খুলনায় নানা হালিমের কদর আলাদা।গত ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডস্থ পাইওয়নিয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সামনে বিক্রি হয়ে আসছে এই হালিম।

রমজান এলেই নানাকে স্মরণ করেন খুলনার সব বয়সের মানুষ। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি ডেগে ১০০ থেকে দেড়শ’ কেজি হালিম রান্না করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কথা হয় তার সাথে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন তিনি। রোজাদারদের কথা চিন্তা করে রমজান মাসজুড়ে হালিম তৈরি ও বিক্রি করছেন। সব বয়সি ক্রেতারা এসে নানা বলে ডাক দেয় তাকে। এতেই যেন বুক ভরে যায় তার।

নানা খ্যাত আলী জানায়,চট্টগ্রাম গোল্ডলিফ কোম্পানিতে কিছুদিন চাকরি করার পর খুলনায় ফিরে এসে পাইওনিয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়ে মাষ্টাররোলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন। বেতন যা পেতেন তা দিয়ে সংসার ঠিক মতো চলত না। তাই বাড়তি আয়ের জন্য প্রথমে ভ্যানে করে হালিম বিক্রি শুরু করেন। পরবর্তীতে হালিমের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে ১৯৯৩ সাল থেকে স্থায়ীভাবে এ ব্যবসা করতে থাকেন। বয়স বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে শুধুমাত্র রমজান মাসে রোজাদারদের তৃপ্তি মেটাতে হালিম বিক্রি করছেন।

খাবারের মান ঠিক রাখতে এখনও হযরত আলী নিজ হাতেই রান্না করেন। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লেও হালিমের ওপর কোন প্রভাব পড়েনি। বাড়ানো হয়নি কোন দাম। নানা আকারের মাটির পাত্রে ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা মূল্যে হালিম পাওয়া যায় তার বিক্রয় কেন্দ্রে।

নানাকে সহায়তাকারী মোঃ হাবিব পেশায় বাবুর্চি। বছরের অন্য সময়ে বিভিন্নস্থানে রান্না বান্নার কাজ করেন। শুধুমাত্র রমজান মাস এলেই নানা দোকানে কাজ করেন। গত ২৬ বছর ধরে তার সাথে রয়েছেন তিনি।

এক ক্রেতা জানান, ‘গত কয়েক বছর ধরে এখান থেকে হালিম কিনছেন। নানার হাতে জাদু আছে। ইফতারে এ খাবারটি না থাকলে তার পরিবারের চলে না। রোজার প্রথমদিনে কিনতে এখানে এসেছিলেন কিন্তু না পেয়ে চলে যান। তাই শুক্রবার সকাল সকাল এসেছেন যাতে খালি হাতে ফিরতে না হয়।’

আরেক ক্রেতা জানান, ‘নানা হালিমের বিশেষত্ব খাসির মাংস ও ঘি এর সংমিশ্রণে এক ভিন্ন স্বাদ। এমন সুস্বাদু হালিম খুলনায় খুব কমই পাওয়া যায়। প্রতিবছর রমজানে ইফতারির জন্য দুই-তিন দিন নানা হালিম নিয়ে যান তিনি। বাড়ির সবাই খুব পছন্দ করে এই হালিম।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক: মেহেদী কবীর সুমন

ইমেইল:  priyokhulna25@gmail.com 

যোগাযোগ:  ০১৭২৩৪৩৫৪৫০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
©2025 priyokhulna all rights reserved