প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জন্য এক নীরব ঘাতক। এটা শুধু জলজপ্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন হুমকির মুখে ফেলছে, তাই নয়– খাদ্যশৃঙ্খলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গতকাল মঙ্গলবার খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে ‘সুন্দরবন দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। তারা বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। প্লাস্টিক বর্জ্য মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে, যা কৃষি ও বনজ উৎপাদনকে বিঘ্নিত করছে। এই অঞ্চলে মাথাপিছু বার্ষিক গড় প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৫ দশমিক ৬৩ কেজি।
সুন্দরবন একাডেমি এবং বন বিভাগ যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। স্থানীয়ভাবে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সুন্দরবন দিবস পালন করা হয়। নির্বাচনের কারণে এ বছর দিবসের আলোচনা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহম্মেদ বলেন, বন বিভাগ এবং এই অঞ্চলের সুন্দরবনপ্রেমী মানুষের যৌথ উদ্যোগে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বনের বৃক্ষ, জলজ এবং প্রাণিসম্পদের সুরক্ষায় সুন্দরবন সন্নিহিত অঞ্চলে একবার ব্যবহার উপযোগী (সিঙ্গেল ইউজড) প্লাস্টিক বন্ধের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য মানুষকে সচেতন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।
সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান, খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক ও রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন রূপান্তর-এর ইকো সুন্দরবন প্রকল্পের সমন্বয়ক সুভাশীষ ভট্টাচার্য।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন খুলনা নাগরিক ফোরামের মহাসচিব ইকবাল হাসান তুহিন, সাতক্ষীরার স্বদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নূর আলম শেখ প্রমুখ। পরে সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
